Annapath

দেও

***হারাধন বৈরাগী

কবি পদ্মশ্রী মজুমদারের কাব্যগ্রন্থ।

প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ ত্রিপুরার সন্তকবিমহারাজ মিলনকান্তি দত্ত ।

স্রোত প্রকাশনা হালাইমুড়া কুমারঘাট ঊনকোটি ত্রিপুরা।পিন-799264 মোঃ9436167231

email:srot gobinda@rediffmail. com, baibari 15@gmail. com/Rs. 100.00

একটি জীবনমুখী কাব্যগ্রন্থ।

___________________________

কবি পদ্মশ্রী মজুমদার এই সময়ের ত্রিপুরার সাহিত্য আকাশের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।তিনি শুধু কবি নন।কবিতা ও গল্পে

সমান পদচারণা ।ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষায় সমান দক্ষ ।এই প্রতিস্রুতিবান কবি ত্রিকালদর্শী ত্রিপুরার পুন্যতোয়া

দেওনদীর উপর আবাল্য আশৈশব আযৌবন সখ্যতার কিংবা সহবাসের সখ্যতা থেকে উঠে আসা ক্ষারপানিই যেন তাঁর এই

কাব্যগ্রন্থের নিখাদ উচ্চার।কবি মিলন কান্তির কথায় '– -নারী ও রমনী, জায়া ও জননী খণ্ড গৃহস্থালি ও কবিতার অখণ্ড

চিরপদার্থ যেন আলাদা করা যায় না।পদ্মশ্রীর সত্যার্থী উচ্ছারণে,'তোমার বুকে এত জল! গহীন জলে নাওকে তবু ভাসতে দিলে

কই? 'তবু'এই শব্দবেদ প্রস্থানের মহাপথে পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়।'

-আমি এই কাব্যগ্রন্থে অনুভব করেছি নদীর সঙ্গে কবির অন্তরাত্মার অভেদ্য সহবাস।যা থেকে কবিকে আলাদা করা

যায় না।আলাদা করা যায় না শ্রীহট্টীয় মানুষের জীবনবেদ থেকে নদীর কান্নার লবন অস্রুর।

দেওনদী /দেরগাঙ জম্পুই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে আনন্দবাজার দশদা কাঞ্চনপুর দুমুইখ্যাআদাম মাছমারা

উকলছড়া পেঁচারতল হয়ে সিদংছড়ায় শাখান ভেদ করে কুমারঘাটের হালাইমুড়ায় গিয়ে মনুর সাথে সঙ্গম রচনা করেছে।এই

নদীর সাথে জড়িয়ে আছে কত কথা। 1709-1715 খৃঃ উত্তর ত্রিপুরার লালজুরীর কোন এক স্হান থেকে এই নদীর নাব্যতা

ধরেই তিনবার এসেছিলেন বাঁশের ভেলা করে আসামের মহারাজ রূদ্রসিংহের দুই রাজদূত ত্রিপুরার উদয়পুরে।বর্তমান

হালাইমুড়ায় কবি পদ্মশ্রীর কবিতাঘর বাসভবনের পাশ দিয়ে ।এমন নদী দেও কবির মগ্নচৈতন্যে ধরা পড়েছে ভিন্ন জীবন

গাঁথামুখ নিয়ে পাঠকের কাছে।

আশৈশব আযৌবন দেওপাড়ে বেড়ে ওঠা কবি

পদ্মশ্রী তাই বলতে পারেন শুদ্ধ উচ্চারে-দেও আমাকে শিখিয়েছে শরীর জুড়ে বন্যা আসা/দেওনদী আমাকে দেয় সময়ের প্রথম

পাঠ, জল/আমার এলোচুলে জল, বুকে জল, গর্ভে ক্রমাগত জলের ঢেউ নিয়ে এখন আমি বর্ষার ভরাল দেও/– -তিনদিন ধরে

জলের মেশিন খারাপ তৃষ্ণা নেই জীবনের কাছে/– –জানতো সবচেয়ে ভালবাসি ঘুমোতে/দেও নদীকে বলি ঘুম পাড়িয়ে দাও /–

— — –কোল ভরে দিয়েছে দেওনদী /তাই আছি পাশাপাশি সমান্তরাল /–যে মাছটি গিলে খেয়েছিল পরিচয়ের আঙটি/তার বুকে

বারবার জল ফেলেও/ তাকে ধরা যায়নি/– –বছর ঘুরতেই আবার গর্ভবতী মায়া/অনিলের স্ত্রী ছেলে কোলে লাকড়ি ধরে দেও

নদীর বন্যায়/– -আজ বারূনী/চাল খই কলা বাতাসা হাঁসের ডিম ধূপ আর উলুধ্বণিতে দেও আজ গঙ্গা/আজ দীপাবলি — –পথ

দেখবেন চৌদ্দপুরূষ/– -আজ আশ্বিনের সংক্রান্তি/শ্রীহট্টীয় ভাষায় আট আনাজের সংক্রান্তি– –ধান আর সবজি ক্ষেতে — –

বসুন্ধরা আজ গর্ভবতী/– -দেও নদীর তীর ধরে হাঁটলে কাঞ্চনপুর নাকি যাওয়া যায় /–দেও নদী শুধু জানে কতটুকু অন্ধকারে

জল কোনদিকে কতটুকু গড়ায়/দেও নদী জানে–কতটুকু অন্ধকারে জন্ম নেয় ডহর/–দেওনদী তিরতির মিশে যায় মনুতে

আমরণ/–বড় সুখে আমার স্নায়ু বয়ে যাচ্ছে অবচেতনার দিকে /তুই দেওনদী আমার ইতিরেখা/

সত্যি পদ্মশ্রী ইতি চান একদিন দেওনদীর কোলে– — — — — -।সুখপাঠ্য অসাধারণ এই কাব্যগ্রন্থ।আমার তাই মনে

হয়েছে।পড়ুন ও পড়ান।শুভেচ্ছা কবিকে।

============%=%%%%%

দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি, একা

আলোচক়:হারাধন বৈরাগী

ত্রিপুরার তরূণ কবি গোবিন্দ ধরের আত্মখননের তর্জনী নির্দেশিত কাব্যগ্রন্থ।বলা দরকার, কবি গোবিন্দ ধর শুধু কবি নন,

একাধারে স্রোত পুস্তক প্রকাশনা, সাময়িকী সম্পাদনা লিটল ম্যাগ আন্দোলন সহ বিচিত্রবিধ সাহিত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সাথে

জড়িত অতি জীবিত এক দ্রোহবীজ।যা তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে স্বখোদিত ভাস্কর্যের মতো প্রস্ফুটিত।এই কাব্যগ্রন্থ পাঠের সাথে

সাথে পাঠক স্বখননের সলিলে ডুবে যাবেন নিজেরই অজান্তে এ আমার গভীর বিশ্বাস ।এই কাব্যগ্রন্থে কবি যেন এক সুদক্ষ

শৈল্যবিদের মতো নিজের জীবনকে নিজেই কাঁটাছেড়া করতে করতে বিশুদ্ধ উচ্চারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনবেদ।আর পাঠক

সেই বেদবীজে খুঁজে পাচ্ছেন যেন নিজেরই দ্রোহবীজ।এখানেই কাব্যগ্রন্থটির স্বার্থকথা যা আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে ।

যখন কবি বলেন,-" পথের এত কাঁটা /চক্র, চক্রব্যুহ, খানাখন্দ মানুষ পার হতে পারে না/

এই চক্রে ঘুরপাক খায়/একটি লাটিম/

জলে থেকেও জল পিপাসায় জলের গভীরে ডুব দেই/ শুধু খাঁচা /খাঁচার দিকে এগিয়ে গেলে খোঁয়াড়ে প্রবেশ/এই

স্বৈরিনীমুখ– -/

তৃষ্ণা মেটেনি/বেলা মাসির পেন্টিতে সময়ের দাগ/এই পৃথিবীতে তুমুল তুফান/

আমি তুমি সবাই শিকার– — -।কিংবা বুকে তোমার অনেক কবুতর ছিল /অথবা "তবু, সোনাগাছির বিপিএল ছলনা– — /

ভাঙচুর হওয়ার মতো যথেষ্ট /কিছুই নেই অবশিষ্ট /অথচ প্রতিবার ভাঙছি/

কিংবা আঁকাবাঁকা হাটি বুকে ভর দিয়ে /

মানুষ অথবা মানুষ নয় অন্য কেউ? /ভেতরে ভেতরে বাস্তুম্যাপ, কামড়ায় মন, মেধা, সংস্কৃতি/

কবির কাছে জীবন গিরগিটির মতো রঙ বদলায়।তাই তিনি রঙ বদলাতে বদলাতে বর্ণান্ধ।

এই একটি মাত্র শরীর/যার সাথে আত্মা আমার ডানার মতো লেপটে আছে/ কিংবা বারবার সরল রেখা আঁকতে /বিন্দু

দিয়েছি/দুটি বিন্দু আর ঠিকঠাক মিলেনি/

কবি বলেন -জল ভেবে বহুদূর অব্দি এসেছি/– -ফেরা কি সহজ? /কেউ ফিরতে পারে না/

কবির উচ্চার -শরীর তৃপ্তি হোটেল নয়– — /

আবার বলেন-সর্বংসহা এই মাটি/– -মাটিতেই বীজ জাগে/মাটিতেই বেড়ে ওঠে/মাটিতেই খাবি আর হোঁচট/মাটিতেই আমিত্ব

শেষ /

টপকাতে চেয়েছি বারবার/আল টপকাতে পারিনি বলে আমি জমিন/

কবির বিশ্বাস– -শুভরেখা তুমি আলোতে থেকো/– — — — — –ভেতরে ভেতরে নিক্কণের শব্দ বাজে/বাইরে আমি

একা/সমস্ত দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি একা, একা।

পাঠ করার মতো কাব্যগ্রন্থ

__________________

"দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি একা"(মোট 71টি কবিতা, 97পৃষ্ঠা )

*********************

– গোবিন্দ ধর

স্রোত প্রকাশনা

হালাইমুড়া, কুমারঘাট, 799264

ঊনকোটি ত্রিপুরা

ইমেইল srot-gobinda@rediffmail. com

মূল্য-একশ টাকা

মোবাইল -09436167231

==========%%=%=%%%%%%%%%%%

বিদিশা সরকার

কবি আব্দুল আলিম ( Abdul Alim ) 'র কবিতার সম্পর্কে কলকাতা কতটা ওয়াকিবহাল আমি জানি না, তবে তার কাব্যগ্রন্থ

" শিশিরের প্রত্নকথা" কবিতা পিপাসুদের সংগ্রহের তালিকায় স্থান নিলে লাভবান হবেন নিঃসন্দেহে।

নাগরিক জীবন ও বিশ্বায়নের পদাতিক কবিদের কথা ভাবলে অবাক হয়ে যাই, দেশ কালের গণ্ডি পেরিয়ে সারকথাটা কত

সহজেই সমকালীন ও

আন্তর্জাতিক। আদপে এই শহুরে কবি'র স্বগতোক্তি, ভাব বিন্যাস, রূপক

ও নিজস্ব ঘেরাটোপের কুটির শিল্পকে যে ভাবমূর্তিতে উপস্থাপনা করেছেন,

বলা বাহুল্য তাক্‌ লেগে যায় !

মূল প্রসঙ্গে আসি। " স্রোত " প্রকাশনীর কাছে ঋণী , অসামান্য এইসব বই

প্রকাশের কারিগর হিসেবে।

কবির প্রথম কবিতায় ,

সমীপেষু

— — — — —

……………

প্রিয় ব্রোকার, জামার আড়ালে শায়িত

ক্ষতবিক্ষত শরীরের মাপজোখ হোক

ভাঙা পাঁজর ও পোড়া হৃদপিণ্ডের

উন্মুক্ত প্রদর্শনী হোক রাজপথে।

সংসদে আনিত প্রস্তাব

স্বীকৃত হোক সরব করতালিতে।" — — পরস্মৈপদী জীবনের প্রতি কী অসম্ভব

তাচ্ছিল্য ! সিস্টেমের বিরুদ্ধে কবির এই কবিতাকে আদাব !

অন্যদিকে 'বিজ্ঞাপন' কবিতায় বিজ্ঞাপিত দাম্পত্য, ফেনায়িত সব মিথ্যের

মুখোমুখি কবি খুব সহজেই লিখে ফেলেছেন — –

'………………..

বলতে পারো আমি সেকেলে মানুষ

কারণ আমি খুলে ফেলতে পারিনি

গায়ের সব জামাকাপড় এবং

একই খামে বন্দী করতে পারিনি শিশু ও আগুন' —

……………………

বিজ্ঞাপনহীন জীবন আমার,

আমি একা আমাকেই ঠুকরে খাই,

কাঠ ঠোকরার মত।'

অন্তর্দৃষ্টি বনাম বিজ্ঞাপন অবশ্যই দোলাচলে, আমরা এগিয়ে যাই আরেকটি

কবিতার জন্য —

' ডায়েরির প্রথম পাতা'

— — — — — — –

'…………………

স্পষ্ট করে লেখা হল

হিম হতে দেবো না বুকের স্পন্দন,

স্বপ্ন, ভালবাসা এবং তারাদের ফিসফিস।'

ডায়েরির রোজনামচায় একটি অর্থবহ শপথ, যদিও দিনাতিপাতের কোনও

জায়গায় তার ছাপ রাখে না। এযে কবি'র একান্ত ইচ্ছা, ইচ্ছার শাসন ! ডায়েরিতে গচ্ছিত রেখে জীবন বীক্ষণের দূরদৃষ্টি !

'অরণ্যহৃদয়' কবিতায় কবি বলছেন–

' মানুষ যে জঙ্গল ছেড়েছে তা বহুদিন হয়নি,

গুহার নির্জনতা, পশুদের আলিঙ্গন

এবং পাখিদের কিচির মিচির

আজও শরীরে লেগে আছে ………'

এই কবিতার শেষ দুটি লাইন লক্ষ্য করুণ —

' আমাদের আবরণহীন শরীর আজও পশুদের দখলে

সূর্যের আত্মত্যাগ পৌঁছায়নি মানুষের বুকে'।

নিদারুন এক যন্ত্রণার ফসল বললে অত্যুক্তি হবে না । বুদ্ধিবৃত্তি আর জীববৃত্তি

নিয়েই তো মানুষ। সেই সনাতন ধারণাকে নস্যাৎ করে দেওয়ার স্পর্ধা কবি

রাখেন।

কবিতার ইলাস্ট্রেশনে না গিয়ে একটি অন্য স্বাদের কবিতা পড়া যাক ।

'বকের বিষণ্ণ ঠোঁট '

— — — — — — — — —

'আমাদের পুকুরের কাকচরে

সকালের রোদে গা ভিজিয়ে

আত্মমগ্ন এক বক

চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতো । '

মাঝখানের কিছু লাইন অতিক্রম করে উপসংহারে আপ্লুত হই –

' বকের বিষণ্ণ ঠোঁট আজও

খুঁচিয়ে যায় বুকের পাথর

অন্ধ বাউলের মত ।' — একটি সার্থক রূপকধর্মী কবিতা। নির্জনতা, আত্মমগ্ন বক, অন্ধ বাউলের মত, খুঁচিয়ে যায় আমার

বুকের পাথর ! এরপরে

আরও কি কিছু বলার থাকে ? উপলব্ধির মগ্নতায় থামতে হোলো । কবিকে

আমার শুভেচ্ছা জানাই ।

000000000000000000000000000000

মৃত্তিকাঋণ

মেঘমিতাকে —

— — — — — — — — — — —

বিদিশা সরকার

কবি অপাংশু দেবনাথ( Apangshu Debnath)

— — — — — — — — — — — –

কিছু উন্মনা লাইন, কিছু দিন গুজরানের আক্ষেপ, কিছু অতীতসম্ভবা পৃথুল

মেঘভার ও বৃষ্টি সম্ভাবনার জানলাগুলো খুলে দিয়ে সম্বিতের বিদ্যুৎ — এসব নিয়েই কবি অপাংশু দেবনাথের কাব্যগ্রন্থ '

মৃত্তিকাঋণ মেঘমিতাকে'-

প্রসঙ্গত বলে রাখার প্রয়োজন বোধ করছি যে, অপাংশু'র বই হাতে পাওয়ার আগেই তার কবিতার পুরুষকার, চৈতন্য

আকাশ- জানবার সুযোগ হয়েছিল ফেসবুকের মাধ্যমেই।ফেসবুকে কবিতা লেখার প্রবণতা নিয়ে তাবড় কবিদের উষ্মা দেখে

কষ্ট পাই।আজকে অপাংশু'র মতো আরও

অনেক কবিকে জানবার ও পড়বার সৌভাগ্য তো এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করেই। আমার অনেক কবিবন্ধু আর প্রিয় কবির

তালিকাভুক্ত হওয়া ফেসবুকের সুবাদেই। নিজে রক্তাক্ত হলেও অন্যদের রক্তাক্ত দেখতে বড় কষ্ট হয়।

কাব্যগ্রন্থের সুচনায় বা কথামুখও বলা যেতে পারে, কবি বলছেন —

" কবিতার জন্য অহোরাত্র জেগে থাকে একা

মৃত্যুর দুয়ারে প্রতিবার লাথি মেরে ফিরে

আসিয়া,যে দেখে অনন্ত সেই প্রত্ন- প্রভাত।"

যেন বিজনবাটির সিংহদুয়ার, যেন সাবেকিয়ানার ঘোষিত অহংকার অনন্ত

প্রত্ন প্রভাতের কাছে নতজানু !

মৃত্তিকাঋণ যে স্বগতোক্তি। জীবনপ্রবাহের সমান্তরাল বহমান ইতিনদীকথা।

কবি অশোকানন্দ রায়বর্ধন ভূমিকায় তার কাব্যময়তার পূর্বাভাস দিয়ে লিখেছেন– " কবিতার প্রব্রজ্যা যে সময়কে সঙ্গী করে

কিংবা সময়ের চিত্রল ছায়া যে জীবনকে জড়িয়ে আশরীর তার দোহার বার্তা এখানে প্রবল

উচ্চারিত। "

প্রথম কবিতার নামকরণ – মেঘমিতার সঙ্গ-সুখ এক দীর্ঘকাব্য। সঙ্গ ও সুখের মাঝখানে এই হাইফেন আবার আশরীর কথাটা

মনে করিয়ে দেয়।

" প্রিয়,

মেঘমিতা,

প্রাগৈতিহাসিক গুহাজীবন থেকে,তোমার

মঙ্গোলীয় মুখ দেখে কেটে গেছে সিঁড়ি ভাঙা

অংকের মতন বাইশ জনমের পুন

পাঠজীবন।……"

প্রেম চিরজীবী, প্রেম পরজীবী, প্রেম অসহায়, প্রেম অস্বীকৃতি- আর সেই কারণেই ' অসময়ের অফুরাণ মেঘলা যন্ত্রণাও।'

কবি মেঘমিতাকে এঁকে চলেছেন অপার্থিব নীলে অথবা ' সে তমালীয় নীল,

চোখে মুখে লাগতেই / ক্রমাগত নীল হয়ে উঠে হৃদয়। মুহূর্তে। …… ।'

অথবা '… শূন্য ঘর।/ আসবাবপত্রহীন।অস্পষ্ট ছায়া উনুন/ কিংবা রকমারী ব্যাগ নেই একটাও তো / যাতে করে এনে দিতে

পারি হাটবন্দী সুখ …'

অকৃপণ 'হাটবন্দী সুখ' এনে দেওয়ার মধ্যে কোথায় যেন এক প্রায়শ্চিত্তের

আত্মতৃপ্তি। প্রতি শ্রাবনেই যেন হারানো সংবাদ নিয়ে বিষণ্ণ স্মৃতির আনাগোনা!

" ওখানেই স্বপ্নবিনিময়, ওখানেই দ্বন্দ্ব

চলে ক্রমাগত উষ্ণ ও শীতল স্রোত হয়ে

অহোরাত্র। এই দ্বন্দ্ব বলয়ে দাঁড়িয়ে বুঝি —

জীবনের প্রতিরূপ হয়ে উঠছ কখন …… "

অথবা

" তরল খাদ্য কনিকার মতোন ; অসুন্দর

অবয়বে আজও অবোধ্য তা আমার কাছে।

ভোর বিজন কিংবা কোলাহলে হয়ে হয়ে উঠো –

অভ্যাস।"

এ যেন দিনাতিপাতের অবসরে সেই অদৃশ্য জানলা, এ যেন ফ্রেমবন্দী জীবন থেকে অগম্য পথের দিশা ' জাতীয় সড়কে মেশে'

। হাইওয়ে আর আকাশ কী

সমার্থক ? অথবা সম্ভাবনাময় ইতিহাস ? কবির যন্ত্রণা যখন একজন সাধারণ

পাঠকের হৃদয়েও সেই চিনচিনে ব্যথা সংবাহিত করে তখন মনে হয় এর শেষ কোথায় ! এই মগ্ন উচ্চারণ তো উপবাসের অন্তে

দৈবী আঘ্রাণেই চিরহরিৎ ফসলের গান। হ্যা গান। সমগ্র কবিতাটিই যেন স্থায়ী থেকে অস্থায়ী,

অস্থায়ী থেকে অন্তরা আবার অন্তরা থেকে সঞ্চারী। যেন অন্তহীনের সুরবাহার।

প্রতিতটি মোচড়ে কোমল পরদাগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে সমে ফিরে আসা। হয়ত পয়ার ছাড়া কবিভাষ্য মেঘমিতাকে বেষ্টনীর আবর্তে

বেঁধে রাখতে পারতেন

না। কারণ মৃত্তিকাঋণের দো-ফসলি জীবনের জীবনগানই একটা মসৃণ পথ

ধরে মোহানা অভিমুখে।

কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে এ কবিতা যে তার নির্ধারিত সময়সীমাকে

নির্ধারিত করেই এগিয়ে চলেছে। যেখানে কবি থামতেই পারেন না। অতি

কৌতূহলে চলভাষে জানতে পারি সম্পূর্ণ কবিতাটি কবি পঁয়তাল্লিশ মিনিটে

সমাপ্ত করেছেন। কলমের বাধ্যতাকেও সাধুবাদ না জানিয়ে পারছি না। আর

কবি তো পথে পথে দেশে দেশেই নিরলস খুঁজে চলেছেন স্মৃতির আনাচ কানাচ।

" এ কোন মায়ার তীব্র টানে ছুটছি আমরা,

ভাঙছি বিচূর্ণ সময়। হৃদয়ের ভেতর

ফেরিওয়ালা চাতক মন চারণের মতো

শরীর বেয়ে ওঠা লেলিহান চৈত্র দুপুর

মাপে। শুধু অপরিমেয় প্রান্তিক অনুভবে। "

শেষ করবো কয়েকটি লাইন রেখে —

" অতি নাস্তিক মন, বাইশ জনমের ধ্রুব

সত্যের বাহক সে, প্রান্তিক প্রত্ন জীবনও

গৃহহীন ছুটে বেড়ানোর কথা ভাবে বসে " —

এই অপ্রাপ্তিই কি বেদনার গুরুভারে অতি বিশ্বাসকে নাস্তিক শব্দটি দিয়ে

শাসন করলেন , না অভিশাপ ? এই বৈপরীত্যই তো সার্থক কবির হৃদয়

উৎসারিত তাগিদ – যা তার বয়ানকে প্রান্তিক পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে সম্পর্কের

সততায়।

অনেকদিন পর একটি ধ্রুপদী কবিতার বই আচ্ছন্ন করে রেখেছে । স্রোত প্রকাশনীকে ধন্যবাদ। অনবদ্য একটি ও অনেক

বিদগ্ধ কবিদের বই প্রকাশে যে নিরলস কর্মযজ্ঞের শরিক হয়েছেন, তা কবিতা পিপাসুদের মননকে সমৃদ্ধ করবে। কবিকেও

আমার শুভেচ্ছা । তার আরও কবিতার

বই নানারূপে কবিতার বাগানে ফুটে উঠুক নানান পুষ্পসম্ভারে ।

0000000000000000000000000000

চক:বিদিশা সরকার

'স্রোত' প্রকাশনার কর্ণধার Gobinda Dhar সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল, তিনি প্রকাশক মাত্র। কিন্তু কিছুদিন ধরে লক্ষ্য

করছি আমার কবিতায় কমেন্ট করছেন

অত্যন্ত সুদক্ষভাবে। আমাকে অবাক করে দিয়ে পরশু তার বই আমার বাড়িতে হাজির। বইটি আপাতত আমার সঙ্গে সঙ্গে

থাকছে। কাব্যগ্রন্থের নাম " শ্রীচরণেষু বাবা" — আমি আপ্লুত তাই গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা হারিয়েছি। আমার মত হয়তো

আরও অনেকের অন্তত কলকাতাবাসীর ধারণাই নেই , কতো সন্তর্পণে তার কবিতার পূজা পর্যায় । বিষয় — বাবা। আলাদা

করে কোনও কবিতার নাম নেই। কিছু মুহূর্তের যন্ত্রণা — কবির বয়ানে আমার বাবাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

কাজে ফাঁকি দেবার প্রবনতা নতুন কোনো

বিষয় নয়। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকে

এই সংস্কৃতি মানুষের মজ্জাগত।

অথচ কোথা থেকে আশ্চর্য প্রাণশক্তি

তোমাকে উদ্বুদ্ধ করতো

দশটা-পাঁচটার কাজে ফাঁকি নেই তোমার।

আমাদের তোমার মতো শিরদাঁড়া

দাঁড় না করিয়েই

কত কিছু বলতে চেয়েও

ফাঁকি দিয়ে চলে গেলে ।

১২

সাইকেল চালিয়ে বাজার যাবে

ছিল শখ

পুরানো একখানা সাইকেল কিনে

ক'দিন চেষ্টা করেছো

জীবনের মধ্যবয়সে।

শেখা হয়নি। তবু আক্ষেপ দেখিনি।

বড়দা চালাতেন। মাঝে মাঝে আমিও।

সাইকেলটা বহুদিন ছিল।

আজ সাইকেলবেলা নেই।

— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —

ছোট ছোট ঘটনা, নিত্যদিনের খুঁটিনাটির মধ্যে কবির কলমে মাঝে মাঝে বাবা

চলে আসেন। বাক্‌রুদ্ধ হয়ে বসে থাকি। এই বইয়ের অন্য কবিতা একটু একটু

করে আমরা পড়বো । কবিকে শুভেচ্ছা ।

00000000000000000000000000

আরক্তসুন্দর মুখশ্রী

সন্মাত্রানন্দ

প্রকাশকাল: নভেম্বর-2015

মূল্য- 150 টাকা ৷ ISBN-983- 93-80904- 65-8

মেধাবী সন্ন্যাসীর মননফসলের সম্ভারে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে বাংলা কাব্যের আদি থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের প্রব্রজ্যার

অনুভবনির্যাস ৷ বাংলার নবজাগরণের তিন পুরোধার জীবনতৃষ্ণার অন্তর্বিশ্লেষণ ৷ কালিকানন্দ অবধূত, তারাপ্রণব

ব্রহ্মচারীর পরে বাংলা সাহিত্যপ্রাঙ্গনে এক নবীন অধ্যাত্মদর্শীর মরমি গদ্য ৷

মেমোরেবল্ স্পিচ্ ত্রিপুরার বাংলাকবিতা

সম্পাদনা : মিলন কান্তি দত্ত

প্রথম প্রকাশ : আগরতলা বইমেলা- 2013

মূল্য ; 100 টাকা

ISBN 978-93- 80904-29- 0

সৎ কবিতা সর্বদাই প্রবাদপ্রতিম ৷ বাংলাকবিতার সূচনাকাল থেকেই বহু কবির কবিতার পংক্তি স্মরণযোগ্য স্থান করে

নিয়েছে ৷ আর্ষবাক্যের মতো অবশ্য উচ্চারিত হয় বহু পংক্তি ৷ ত্রিপুরার কবিদের কাব্যের উজ্জ্বল স্মরণীয় পংক্তিমালার এক

অভিনব সংগ্রহ যা এই ভুবনের কবিদের শব্দকুশলতার গভীর বারতাবাহী ৷

কৃষ্ণগহ্বর

রাজকুমার দাস

প্রকাশকাল: জানুয়ারি 2015

মূল্য: 70 টাকা

ISBN: 978-93- 80904-44- 3

জীবনযন্ত্রণার প্রতীকীভাষার মর্মরতৃষ্ণা ফুটেওঠে প্রায় প্রতিটি কবিতায় ৷ কোন প্রপাতের ধারে দাঁড়িয়ে জলনিক্কনের ধ্বনি,

অরণ্যলিপি ভেদ করে বোধের কেন্দ্রবিন্দুতে নেশার্ত মগজ

খোলস ছাড়িয়ে স্বপ্নলীনার জন্যে ধ্রুবকসংবাদ বয়ে আনে ৷

থই থই ছড়া

গোবিন্দ ধর

প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি -2011

মূল্য 70 টাকা

ISBN :13-978- 81-907097- 5-0

আদিকবিতার শুরু ছড়া দিয়েই ৷ ছন্দের দোলায় ছড়া যেমন শিশুপাঠ্য এবং শিশুমনের অন্তরে নাড়া দেয় তেমনি পরিণত

মনেও আনন্দের সঞ্চার করে ৷ সহজ কথায় অনেক কঠিন উচ্চারণও ছড়ায় সম্ভব ৷কবি গোবিন্দ ধরের ছান্দসিক দক্ষতায়

পাঠককে আকর্ষণ করবে নিশ্চিত ৷

সূর্য সেন লেন

গোবিন্দ ধর

প্রথম সংস্করণ : জানুয়ারি 2007

মূল্য: কুড়ি টাকা

গভীর হৃদয়সাগরে সন্তরণরত কবি মিলিত হন জীবনের বহুবিধ জলজ উপাদানের সঙ্গে ৷ সেইসব আর্দ্র অনুভব অক্ষরের

ডিঙা বেয়ে উঠে আসে কবির মানবীসত্তার কাছে ৷ কবির অভিমানধারায় পাঠককে সিক্ত করার মতো বর্ণমালার চারুসম্ভার

মৃত্তিকাঋণ মেঘমিতাকে

অপাংশু দেবনাথ

প্রকাশকাল : জানুয়ারি 2015

মূল্য : 80 টাকা

ISBN :978-93- 80904-46- 7

অনন্ত নতুন প্রভাতে কবির অনুভবে মূর্ত হয় আকাশজমিনের নিবিড় আশ্লেষ ৷ মেঘজলে সিক্ত হয়ে আসে মৃত্তিকার উর্বরতা ৷

তার উর্বরতা আনে সৃষ্টির বীজবার্তা, প্রজননসূত্র ৷ সেই কাম্য সৃজনের অনুঘটকের প্রতি মৃত্তিকাময় ভুবনের চিরায়ত

ঋণস্বীকার কালের পত্রকাব্যগল্পের নতুন বয়ন কবি অপাংশু দেবনাথের স্বাতন্ত্রিক চিহ্নায়ণের প্রয়াস সাম্প্রতিক বাংলাকাব্যে

নতুন প্রণয়নাদ ৷

কৃষ্ণাবয়ব

পদ্মশ্রী মজুমদার

প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি 2010

মূল্য : 66 টাকা

ISBN :-978- 81-906958- 9-3

সময়ের আলোয় মেলে ধরা জীবনের পরত ৷ সমকালীন জীবনের প্রেম- প্রেমহীনতা, ঈর্ষা- হতাশা, আশা- নৈরাশ্য, রাজনীতি-

ধড়িবাজি, স্বপ্ন ও বিষন্নতার আশ্লেষকথন প্রান্তিক সমাজের প্রতিনিধিদের মুষিকজীবন ও যাপনপ্রশ্নের তীব্র ব্ল্যাকহোলের

উন্মোচন যেন এই কথাকারের নন্দন ৷

জুম

পদ্মশ্রী মজুমদার

প্রথম প্রকাশকাল : মার্চ 2008

মূল্য : ষাট টাকা

ISBN : 978-81- 90600-3- 9

গল্পের পরিমন্ডলে প্রথম পায়ের ছাপে আলপনার মতো শৈলীতে তুলে আনা গদ্যভাষায় পাওয়া যায় ত্রিপুরার ভূমিঘনিষ্ঠ

সাধারণ জীবনচিত্র ৷তার দ্বন্দ্ব- সংঘাত, স্থানিক চিহ্নিত চরিত্রায়ণ ও জীবনধারার চিত্রকল্প বাংলা ছোটোগল্পে এক নতুন

ভূখন্ডের অবতারণা গল্পকার পদ্মশ্রী মজুমদারের ভূমিজীবনের অগ্নির লেলিহান দহনের বিপরীতে জীবনের আর্তি

ত্রিপুরার লোকসংস্কৃতির উৎসসন্ধান ও বিষয়বিন্যাস

অশোকানন্দ রায়বর্ধন ৷

প্রকাশকাল : নভেম্বর 2013

মূল্য : 125 টাকা

লোকসংস্কৃতির অন্তর্লীন বিষয়ের গভীর অনুসন্ধানে তুলে আনা তত্ত্ববীজ ৷ত্রিপুরার প্রতিনিধিস্থানীয় কয়েকটি জনজাতির

নিজস্ব সংস্কৃতির বিচার বিশ্লেষণ, সেইসঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সংমিশ্রণ- বিমিশ্রণের অতীত অন্বেষণ এবং

লোকসংস্কৃতির সমন্বয়ধর্মীতার রূপ চিহ্নায়ণ ৷ লোককাহিনির আড়ালে বিশ্বজনীন দিগন্তের সূত্রসন্ধান এই গ্রন্থের মেধাবী

নির্মানছাপ রয়েছে প্রতিটি প্রবন্ধে ৷

লোকসংস্কৃতি ফেনী থেকে গোমতী

হরিহর দেবনাথ

প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি 2015

মূল্য : 70 টাকা

পরিবেশক : স্রোত প্রকাশনী

লোকপার্বন ও লোকসংস্কৃতির শেকড়ের খোঁজে বেরিয়ে গ্রাম- গঞ্জ চষে তুলে আনা নানা আঙ্গিকের মণিখচিত অনুষঙ্গ নিয়ে

তৈরি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের পুস্তক ৷ অবলুপ্তপ্রায় লোককথা,লোকগাথা, হোলির গান, বিয়ের গান, সন্ন্যাস গান, বৈঠক গান,

শোলোক ইত্যাদির গভীর অনুসন্ধানের সফল প্রয়াস ৷ আগ্রহী পাঠক ও গবেষকের জিজ্ঞাসা পূরণে সহায়ক এই গ্রন্থ ৷

শ্রীচরণেষু বাবা

গোবিন্দ ধর

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি 2014

মূল্য 70 টাকা

ISBN 978-8094- 37-5

প্রজন্মবাহিত রক্তের লালনকে শ্রদ্ধায় ও আন্তরিকতায় শব্দকল্পের সৃজনে জীবনের বৃত্তপথ পরিক্রমণের বৃত্তান্ত ৷ রক্তের দোলার

ছলাৎচ্ছলে পূর্বজকে চিরকালীন ধ্রুবপদে বাঁধা উত্তরপ্রজন্মের সরল উচ্চারণ ৷কবি গোবিন্দ ধরের জীবনে সৃষ্টিশীলতা যেমন

ঘন ঘন বাঁক নেয় পাহাড়ি নদীর মতো তেমনি কাব্যে স্বীয় আত্মার পাড় ঙাঙার আওয়াজে উচ্চকিত তাঁর শব্দকোশ ৷

দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি একা

গোবিন্দ ধর

প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি 2011 মূল্য 100 টাকা

ISBN 13-978- 81-907097- 6-7

কবি গোবিন্দ ধরের আত্মখননের স্তব ৷ মিতস্বরে তুলে নেওয়া আত্মজৈবনিক পংক্তিমালা ৷ যে শব্দের সংসারে শুধুমাত্র

স্বদর্শনই নয়, যেন উন্মোচিত হয় বহুজনের লিপিসংকেত, যে দ্রোহবীজ তিনি পুঁতে রাখেন একা, তাই যেন অঙ্কুরের চোখ মেলে

তাকায় ভ্রমসূর্যের দিকে ৷

ত্রিপুরার বিপন্ন আদিবাসী জনজাতির মৌখিক সাহিত্য

শ্রীদাম বনিক

প্রকাশকাল : নভেম্বর 2015

মূল্য 100 টাকা

lSBN 978-93- 80904-59- 7

উত্তর- পূর্বের ক্ষুদ্র রাজ্য ত্রিপুরার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের পাশাপাশি বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক

ঐতিহ্যও বহুবর্ণময় ৷ উনিশটির মতো জনজাতির মৌখিক সাহিত্য বিদ্যমান ৷ এই জনজাতির অপেক্ষাকৃত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী

সাঁওতাল,খাসিয়া ও লুসাইদের মৌখিক সাহিত্যের গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ

আমার কবিজীবন

পীযুষ রাউত

প্রকাশকাল অক্টোবর 2015

মূল্য 150 টাকা

lSBN 978-9380904- 62-7

কবির দিনপঞ্জী ৷ কবিতাযাপনের জন্য নিহিত সংগ্রামকথা ৷ সাহিত্যপত্র প্রকাশের লড়াইয়ের রক্তঘাম ঝরা দিনলিপির

পাশাপাশি প্রবন্ধগ্রন্থে উন্মোচিত হয়েছে বিগত শতাব্দীর ছয়ের দশক থেকে কবির কবিতসংগ্রাম ৷ স্বাধীনোত্তরকালে শৈশব

থেকে বেড়ে ওঠার প্রাত্যহিক কথকতা সাহিত্যের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কাব্যান্দোলনের ইতিহাস,পশ্চিমবঙ্গের কাব্যচর্চার

সঙ্গে সমকালীন ত্রিপুরা বরাকের সাহিত্যের গতিপ্রকৃতিরও উন্মোচন ঘটেছে এই গ্রন্থে ৷

সবলার জলছবি

বিধাত্রী দাম

প্রকাশকাল 25 জানুয়ারি 2016 মূল্য 100 টাকা

lSBN: 978-93- 80904-86- 3

ত্রিপুরার ভৌগোলিক সীমায় অবস্থান করলেও রাজ্যের গুণী বিদুষী কবি বিধাত্রী দাম তাঁর কবিতার নৈপুণ্যে বাংলাকবিতার

পরিমন্ডলে এক অবশ্য উচ্চারিত নাম ৷ কবি তাঁর সাদামাটা ভাষায় নিত্যদিনের ' অনুচ্চার কথামালা ' কলমের ডগায় তুলে

ধরেন ৷ নারীসত্তার বিষাদগল্পের মধ্যে নিখুঁত পারিপাট্যে জীবনের আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর জন্যে অঙ্গীকারবদ্ধ কবির উচ্চারণ

৷ তাঁর স্বনির্বাচিত প্রতিনিধিপ্রতিম কিছু কবিতার সংকলনে কবিকে সন্ধান করার এই গূঢ় সংকেত এই কাব্যগ্রন্থ ৷

অন্তস্থল

দেবব্রত দেব

প্রথম প্রকাশ: মার্চ 2008

মূল্য 60 টাকা

ISBN 978-81906400- 8-4

নিরন্তর বাংলা কথাসাহিত্যের অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন এবং উত্তরপূর্ব ভারতের এই সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকারের

সম্মানে একাধিকবার ভূষিত রাজ্যের কথাসাহিত্যিক দেবব্রত দেব ৷ গল্পের আঙ্গিকে আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে এই অঞ্চলের

মানুষের বিপন্নতা, জীবনযাপনের গ্লানি, সমস্যা ইত্যাদিকে নিপুণ ডিটেলে প্রতিক্ষণ আবিষ্কার করে চলেছেন ৷ তাঁর গল্পে এই

অঞ্চলের জনমানুষ যা পাঠককে নতুন পরিমন্ডলের সঙ্গে পরিচয় করায় ৷

মোনালিসার সুইসাইড নোট

বিল্লাল হোসেন

প্রকাশকাল: জানুয়ারি 2015

মূল্য -80 টাকা

ISBN 978-93- 80904-54- 2

ত্রিপুরার কথাসাহিত্যের ধারাবাহিকতায় গল্পচর্চার উত্তরাধিকার ৷ নবীন গল্পকার বিল্লাল হোসেনের কথাচিত্রে প্রতিফলিত

ত্রিপুরার মাটিসংশ্লিষ্ট জীবনচিত্র ৷ চারপাশের বহমান জীবনধারা, রাজনীতি, প্রতিদিনের চেনা চরিত্রগুলোর জীবনযুদ্ধ,

অবক্ষয়, জঙ্গী হামলার প্রেক্ষাপট, প্রতিবাদী তারুণ্যের দার্ঢ্য অতি নিপুণ গদ্যশৈলীতে মূর্ত হয়ে উঠেছে ৷ পাঠককে চমকিত

করার পাশাপাশি বাংলা কথাসাহিত্যের গর্বিত ভান্ডারেও স্থান করে নেওয়ার যোগ্য

কবির বাড়ি

অমিতাভ দেবচৌধুরী

প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি 2009

মূল্য- 80 টাকা

ISBN 13-978- 81-906958- 1-7

অধুনালুপ্ত মসীব্যবহার, শিল্প ও নৈতিকতা, শিশুসাহিত্য ও কমিকসের বিবর্তন, শার্লক হোমস- সন্দীপন- শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর

মূল্যায়ন, বরাক উপত্যকাসহ উত্তরপূর্বের সাহিত্যচর্চা ইত্যাদি বহুবিচিত্র বিষয়ের উপর সন্ধানী ও মেধাবী গদ্যের সমাহার

উত্তরপূর্বের শক্তিমান কবির অন্যতর বীক্ষণ ৷

অনিন্দিতা দেবনাথ – নীতিরেখা

প্রকাশকাল – নভেম্বর ২০১৫ ইং

মূল্য-৩৫ টাকা ।

আলোচক

:সংকলন ও সম্পাদনা -গোবিন্দ ধর ।

শ্রীমতি অনিন্দিতা দেবনাথ তরুণ কবি । সদ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল আয়ুর্বেদিক কলেজ এন্ড হসপিটাল এ

পড়াশুনো করছেন । ছোটোবেলা থেকেই অজান্তে ছন্দের আনাগোনা হোত কলমে কাগজে, পরবর্তী সময়ে সেই ছন্দ কবিতার

রূপ ধারণ করে । অনিন্দিতা আবৃত্তি করেন সাবলীল ভঙ্গী তে । অনিন্দিতার কন্ঠে একটি কবিতা এবং একটি অনুগল্পের সিডি

শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ।

আলোচনা :সঞ্জীব দে

এই জুম গ্রন্থের লেখক পদ্মশ্রী মজুমদার সমাজ ও পারিবারিক জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপাদান সংগ্রহ করে এতো সুন্দর মর্মস্পর্শী

রচনা অতি সহজ সরল ভাষায় আমাদের উপহার দিয়েছেন তাতে প্রশংসার দাবি রাখে। কঠিন বিষয় বস্তুকে যিনি সহজভাবে

বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন তিনিই সফল লেখক বা লেখীকা। সেই দিক থেকে পদ্মশ্রী মজুমদার রাজ্যের একজন

সফল লেখীকা।বইটির শেষ লাইন- ' তবু বাঁচতে হবে এক জীবন………….. এক জুম। কি সহজ কথা অথচ এর ভিতরে আছে

কত গভির তাৎপর্যপূর্ণ রহস্য।

আলোচনা:সঞ্জীব দে

হরিহর দেবনাথ : লোক সাংস্কৃতি ফেণী থেকে গোমতী।

প্রথম প্রকাশ- ২০১৫।

মূল্য–৭০ টাকা

বইবাড়ি

কবি, গল্পকার, নাট্যকার, ছড়াকার কবি হরিহর দেবনাথ রাজ্যের সাহিত্য জগতে এক পরিচিত নাম। রাজ্যের প্রত্রিকায়

তিনি নিয়মিত সাহিত্য পাতায় লিখতেন। তাঁর লোক সংস্কৃতির উপর লেখা বইটি লোক বিলুপ্তপ্রায় লোক সংস্কৃতির এক

অমূল্য সম্পদ।যাঁরা লোক সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন তাদের কাছেও বইটি গুরুত্বপুর্ন বলে মনে করি। বইটিতে লেখক

চট্রগ্রাম ও নোয়াখালি অঞ্চলের লোক কথা ও লোক পার্বনের বিভিন্ন বিষয়গুলিকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।

আলোচক :দেবাশিস মল্লিক

কবি বিদিশা সরকার বরাবরই আমার প্রিয় কবি।তার প্রকাশিত সবকটি কাব্যগ্রন্থ পড়েছি।ফেবু কখনোই কাব্যগ্রন্থ

আলোচনার জন্য নদীপরিসর নয়। তবু সংক্ষিপ্ত পাঠ অভিজ্ঞতা এখানে লেখাই যায়।'ফুল দংশাই' কাব্যগ্রন্থের একাধিক

কবিতার মধ্যে বর্ণবৈচিত্র্যর থেকে আলোছায়ার বৈচিত্র্য রয়েছে বেশী।অসংখ্য উদ্ধৃতিতে জোনাকি বিলাসের আলো থেকে

শামুকখোলের গূঢ় অন্ধকারকে প্রকাশ করা যায়।কবি তার কবিতার মধ্যে দিয়ে ঘরে না ফেরার(চাঁদজ্বর) কথা বললেও ভোর

হলে জাগিয়ে দেওয়ার(ফেরার) কথাও বলেছেন। কবির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটি হল তার শব্দজাল।সেই জালকে ইচ্ছেমতো

ব্যবহার করেছেন নিখুঁত ভালোবাসার আন্দাজে।ধারাভাষ্য কবিতায়– -(পাতার আহার রাখো পাতায়সৈন্ধব/মাঝে পদ্ম ফুটে

ওঠে জলাশয় স্তব)লাইন দুটি অন্যতম সেরা মনে হয়।আগেই বলেছি এমন অনেক লাইন রয়েছে যাদের সমান্তরালে হাঁটলে

পাঠক হয়তো পৌঁছে যাবে পাতাল পর্বের'প্যাসিফিক কনফেসন' থেকে ঈশ্বর আবর্তের 'অলকানন্দায়'। ফুল দংশাই পড়ে দেখুন

দংশাবেই।

শুভময়তায় দেবাশিস মল্লিক।

About tripura

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com